সূত্র : কালের কন্ঠ অনলাইন ডেস্ক ;প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১০:৫১
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে বাংলায় ঐতিহাসিক ভাষণ দেবেন। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে এ ভাষণ অনুষ্ঠিত হবে।
ড. ইউনূসের ভাষণে মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপট এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগের বিবরণ থাকবে। দেশের ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর তিনি কীভাবে নেতৃত্বের ভার নিয়েছেন এবং তার নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের রূপান্তরের প্রচেষ্টা কীভাবে চলছে, তা তুলে ধরবেন।
বৈশ্বিক সংকট নিয়ে বক্তব্য
ড. ইউনূস তার ভাষণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন জ্বলন্ত ইস্যু যেমন ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা, রোহিঙ্গা সংকট এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ত্বরিত সহযোগিতার আহ্বান জানাবেন। তিনি বিশেষভাবে ফিলিস্তিনে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যা বন্ধে বিশ্ববাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করবেন।
রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশকে সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানাবেন। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হওয়ায় তিনি যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবেন।
জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন
তাঁর ভাষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয় এবং এর মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা। বাংলাদেশ, যেটি জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম, সেই প্রেক্ষাপটে ড. ইউনূস জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ও টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ঐক্যমতের আহ্বান করবেন।
অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন
ড. ইউনূসের ভাষণে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং এর ফলে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। তিনি সরকার ও অর্থনীতির আধুনিকীকরণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরবেন। তাঁর মতে, অর্থনীতির এই উন্নয়ন দারিদ্র্য বিমোচন এবং দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন
ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর নতুন বাংলাদেশ গঠনের সম্ভাবনা ও রূপরেখাও তাঁর ভাষণের অন্যতম বিষয় হবে। তিনি বিশ্ববাসীর সামনে একটি নতুন, শক্তিশালী ও উদারনৈতিক বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরবেন, যেখানে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক সংস্কারের মধ্য দিয়ে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে। তাঁর মতে, এ বিপ্লব শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্ববাসীর জন্যও একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
অধিবেশনের প্রতিপাদ্য
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের এবারের প্রতিপাদ্য হলো: “কাউকে পিছিয়ে রাখা নয়: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তি, টেকসই উন্নয়ন এবং মানব মর্যাদার অগ্রগতিতে একসঙ্গে কাজ করা।” ড. ইউনূসের ভাষণ এই প্রতিপাদ্যের আলোকে বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই ভাষণ বাংলায় দেওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হবে এবং বিশ্ববাসীর সহানুভূতি ও সহযোগিতা লাভের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।