সূত্র :যুগান্তর, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:৪৭ পিএম
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার পদে থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় কলাপাড়া থানার সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ রায়ের আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হাসান মাহমুদ, যিনি ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে হওয়া মন্তব্য এবং হত্যার হুমকির বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করেছেন।
মামলার বিস্তারিত
বাদী হাসান মাহমুদ এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ২ মে, ড. ইউনূস আদালতে একটি মামলায় হাজির হওয়ার পর পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সেই সময়ের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং এটি বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও নিউজ পোর্টালে প্রচারিত হয়।
ভিডিওটি নিয়ে মো. মাসুম বিল্লাহ, যিনি একজন রেলওয়ের কর্মচারী, ভিডিওটি শেয়ার করে মন্তব্য করেন, “আপনাকে দেখে মনে হয় আমেরিকার দালাল।” এরপর তিনি স্থানীয় জনগণের মধ্যে হুমকি দেন যে, যদি ড. ইউনূসকে একা পান, তবে তাকে গুলি করে হত্যা করবেন।
বাদী অভিযোগ করেছেন যে, মাসুম বিল্লাহ তাঁর মন্তব্য এবং হুমকি দিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩০৭/৪৯৯/৫০৬(৪) ধারার আওতায় অপরাধ করেছেন।
পুলিশি প্রতিক্রিয়া
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলী আহম্মদ জানিয়েছেন যে, এখনও আদালতের আদেশের কপি হাতে পাননি। তিনি বলেন, “আদেশ পাওয়ার পর আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
এটি একটি গুরুতর ঘটনা, যা সুশাসনের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে হত্যার হুমকি দেওয়া একটি আইনি অপরাধ, এবং এর ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
প্রসঙ্গত
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ এবং সমাজকর্মী, যিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের মন্তব্য এবং হুমকি রাজনৈতিক এবং সামাজিক অস্থিরতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
মামলার এই দিকটি স্পষ্ট করে যে, মুক্ত মত প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। আইন এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান রেখে যে কেউ বক্তব্য প্রদান করতে পারেন, কিন্তু হুমকির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির জীবন বিপন্ন করা উচিত নয়।
এ ধরনের ঘটনা সবার জন্য একটি সতর্কতা যে, সামাজিক মিডিয়া এবং প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, এবং সকলকে এর প্রতি সচেতন থাকতে হবে।