ইউনূস ম্যাজিক: বিদেশি বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত!'

 সূত্র :যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০২:২৮ পিএম



জাতিসংঘ অধিবেশনে ড. ইউনূসের উজ্জ্বল উপস্থিতি 

এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর উপস্থিতি এবং বক্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে, ছাত্র-জনতার গণবিক্ষোভের কারণে ক্ষমতা ছেড়ে ভারত পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার পর, ড. ইউনূসের নেতৃত্বের দিকে সকলের নজর পড়েছে।


বিদেশি বিনিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতা 

বর্তমানে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে বাংলাদেশকে নিজেদের পক্ষে টেনে আনার জন্য এক তীব্র বিনিয়োগের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয় দেশ বাংলাদেশে বিপুল বিনিয়োগের আশা করছে, যা দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন গতিশীলতা আনবে।


ড. ইউনূসের মন্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা  

ড. ইউনূস জাতিসংঘের অধিবেশনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে এক সাক্ষাতে বলেন, তিনি চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ‘নতুন অধ্যায়’ খুলতে চান। তিনি বলেন, “চীন অতীতের মতো বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশীদার হবে।” এসময় তিনি উল্লেখ করেন যে, চীনা সৌর কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বৃহৎ বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত


বিশ্বব্যাংকের সহায়তা

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, ডিজিটালাইজেশন, তারল্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহণ খাতে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। এই সহায়তা বাংলাদেশের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।


সার্ক সম্মেলন পুনরায় চালু করার উদ্যোগ

ড. ইউনূস ভারতের চাপের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সার্ক সম্মেলন পুনরায় চালু করতে উদ্যোগী হয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার এই আঞ্চলিক জোটের অধিবেশন ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে থমকে গেছে। জাতিসংঘ অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎ করে তিনি এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।


চীনের সমর্থন 

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক ইউনূসকে ‘চীনা জনগণের পুরোনো বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং নতুন সরকারের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “আপনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবেন, এ ব্যাপারে আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।” ওয়াং ই আরও জানান, ড. ইউনূসের আহ্বানে চীনা সৌর প্যানেল নির্মাতাদের বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনের জন্য গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে চীন।


উপসংহার

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই নতুন রাজনৈতিক অবস্থান বাংলাদেশের জন্য বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। তিনি যে কৌশলগত সম্পর্কগুলি গড়ে তুলছেন, তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে

Post a Comment

Previous Post Next Post